যুবলীগ নেতা রাশেদ হত্যা: ১০ লাখ টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব খুনির!

0
176
নিহত যুবলীগকর্মী কাজী রাশেদ (বাম), হত্যা মামলা প্রধান আসামী সুন্দরী সোহেল (ডান)

যুবলীগ নেতা কাজী রাশেদ হত্যা মামলার বাদীকে মেরে ফেলার হুমকির পর এবার ১০ লাখ টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছে প্রধান আসামি বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুন্দরী সোহেল।

মামলার বাদী কাজী রাশেদের স্ত্রী মৌসুমী যুগান্তরকে বলেন, খুনি সোহেল অনেকদিন ধরেই আমাকে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বলছে, মামলা তুলে নেয়া না হলে রাশেদের মতোই পরিণতি হবে আমার ও আমার সন্তানের। সম্প্রতি ফোন দিয়ে ১০ লাখ টাকায় মামলাটি তুলে নিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেয় আমাকে।

রাশেদের স্ত্রী বলেন, আমি টাকা চাই না। যারা আমাকে বিধবা করেছে, আমার একমাত্র সন্তানকে এতিম করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি আরও বলেন, খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। জাকির নামের এক আসামি গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে সুন্দরী সোহেলের অফিস খুলে সেখানে সন্ত্রাসীদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। তারা নানাভাবে আমাদের হুমকি দিচ্ছে।

গত বছরের ১৪ জুলাই রাতে মহাখালীতে সুন্দরী সোহেলের অফিসে খুন হন তারই সহযোগী কাজী রাশেদ। পুলিশের দাবি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে এ খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাশেদের স্ত্রী মৌসুমী বাদী হয়ে সুন্দরী সোহেলকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

যদিও পুলিশ বলছে, খুনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা গেছে। আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার জাকিরও ইতিমধ্যে জামিনে বেরিয়ে গেছে। মূল আসামি সোহেল বিদেশে পলাতক। অন্য আসামিদের মধ্যে দীপু, হাসু, ফিরোজ ও জহিরুল আত্মগোপনে রয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আলাউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এ হত্যা মামলার সবকিছুই ডিটেক্ট হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। প্রধান আসামি বিদেশে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তাকে গ্রেফতার করা গেলে সহজেই অন্যদের সন্ধান পাওয়া যেত। তবে অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাদীকে প্রধান আসামির হুমকি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, হুমকির বিষয়টি আমরা বাদীর কাছে শুনেছি। সোহেলের ভাই কানাডা থেকে একবার হুমকি দিয়েছিল। সোহেলও বেশ কয়েকটি নম্বর থেকে বাদীকে ফোন দিয়েছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সে বিভিন্ন সময় ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার নম্বর থেকে ফোন দিয়েছে। বাদীকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাদী রাজি না হওয়ায় এখন আর ফোন দেয় না।

সোহেল বিদেশে, কিন্তু অন্য আসামিরা কেন গ্রেফতার হচ্ছে না- জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তাদের গ্রেফতারের সব ধরনের চেষ্টা করেছি। আসামিদের একজন জহিরুল। কিছুদিন আগে তার বাবা মারা গেছে। তারপরও সে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আরেক আসামির সন্তান হয়েছে। সন্তান দেখতেও আসেনি।

এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড সুন্দরী সোহেল বর্তমানে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছে। সহযোগীদের কেউ কেউ সেখানেই তার সঙ্গে অবস্থান করছে। কিছুদিন আগে সোহেলসহ খুনিদের কয়েকজন ফেসবুকে ছবি আপলোড দিয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর তারা সেই ছবি ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলে।

সূত্রটি আরও বলছে, সোহেল মামলার বাদীকে হুমকি দেয়ার পাশাপাশি নানাভাবে উত্ত্যক্তও করছে। ভাইভার ও ইমোতে ফোন দিয়ে আপত্তিকর প্রস্তাবও দিচ্ছে।