মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্যায় জড়িত সেনাদের বিচার শুরু

0
1

রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের সময় নৃশংসতার দায়ে তদন্তের পর সেনাদের সামরিক আদালতে এক বিরল বিচারের আয়োজন করেছে মিয়ানমার।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) এ বিচার শুরু হয়েছে বলে দেশটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। এমন এক সময় বিচার শুরু হয়েছে, যখন হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমার। খবর: রয়টার্স।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গণহত্যার উদ্দেশ্যে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জাতি সংঘের তদন্তে বলা হয়েছে।

বিচ্ছিন্ন পশ্চিম রাখাইনে কয়েকশ গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গ্রামের বৌদ্ধরা। ব্যাপক হত্যা ও গণধর্ষণের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, নিরাপত্তা চৌকিতে হামলাকারী বিদ্রোহদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান চালাচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে মিয়ানমারের মুখপাত্র জ মি টু টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার স্থান গু ধার পিয়ান গ্রামে মোতায়েন করা রেজিমেন্ট অফিসার ও সেনারা নির্দেশনা মানার ক্ষেত্রে অক্ষম ছিল।

নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে মিয়ানমার বলছে, গু ধার পিয়ান গ্রামের ঘটনায় জড়িত সেনাদের কোর্ট মার্শালে বিচার চলছে।

গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়াদের বরাতে গ্রামটিতে অন্তত পাঁচটি গণকবর থাকার কথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটস প্রেস (এপি) মিয়ানমার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রোহিঙ্গা নিপীড়ন ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক চাপে রয়েছে মিয়ানমার। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক কোর্ট অব জাস্টিসে শুরু হওয়া শুনানিতে অংশ নিতে হেগে যাচ্ছেন নোবেলজয়ী অং সান সুচি।

গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলমান প্রধান ছোট্ট দেশ গামবিয়া। এতে ৫৭ সদস্যের ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি সমর্থন জানিয়েছে।

মিয়ানমার বলছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উদ্যোগে তার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হচ্ছে। অভিযোগের বিরুদ্ধে একটি নিজস্ব তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।