মালয়েশিয়ায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন

0
4

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসটি পালন করা হয়েছে।

দিনের কার্যসূচির প্রারম্ভেই জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রথমেই পুস্পস্তবক অর্পণ করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মহ. শহীদুল ইসলাম। এরপর পুস্পস্তবক অর্পণ করেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে।

রোববার সকাল ১০টায় দুতাবাস প্রাঙ্গনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশটিতে নিযুক্ত হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শ্রম শাখার দ্বিতীয় সচিব ফরিদ আহমেদ ইসলামের পরিচালনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন এয়ার কমডোর মো. হুমায়ূন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন ডেপুটি হাইকমিশনার ওয়াহিদা আহমেদ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন শ্রম কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন, পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার প্রথম সচিব মো. মশিউর রহমান তালুকদার।

দিবসটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত প্রথমেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তার সমগ্র জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষকে একটি শোষণহীন, সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন উপহার দিতে। শত জুলুম, অত্যাচার ও অবিচার কোনো কিছুই তাকে তার লক্ষ্য হতে বিচ্যূত করতে পারেনি।

হাই কমিশনার বলেন, জীবনের দীর্ঘ একটি সময় বঙ্গবন্ধুর কেটেছে কারাগারে। শ্রেষ্ঠ সময়ের এতগুলো বছর তিনি অকাতরে কারাগারের ভেতরে কাটিয়ে দিয়েছেন একটা আদর্শকে, একটা স্বপ্নকে ধারণ করে।

বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা অনুকরণীয় উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে আগত শিশুদের রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুর জীবনী পাঠ করার আহ্বান জানান। তিনি শিশুদের বঙ্গবন্ধুর দুইটি গুণ আত্মস্থ করতে বলেন একটি হলো অন্যায়কে না মেনে নেয়া, অন্যটি হলো দেশকে ভালোবাসা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার বাংলাদেশ। যে স্বাধীন দেশ বঙ্গবন্ধু আমাদের উপহার দিয়েছেন এবং সারা বিশ্বে তার উন্মেষ ঘটিয়েছেন তা আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে দূর্বার গতিতে। আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সহজ উপায় হলো তার আদর্শকে মাথায় নিয়ে যে যার অবস্থানে থেকে দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া।

অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেট কাটেন এবং ৯ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া তিনজন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল , প্রথম সচিব বাণিজ্য মো. রাজিবুল আহসান, ফার্স্ট সেক্রেটারি তাহমিনা ইয়াছমিনসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।