ভেষজ গুণসমৃদ্ধ বাসক

0
2
ভেষজ গুণসমৃদ্ধ বাসক। ছবি সংগৃহীত

বাসক ছোট আকৃতির চিরহরিৎ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর আদিনিবাস আফ্রিকা ও এশিয়ার উষ্ণ অঞ্চল। বাসকের ইংরেজি নাম : Vasaka, Malabar Nut tree. পরিবার : Acanthaceae. উদ্ভিদ তাত্ত্বিক নাম : Adhatoda yeylanica. ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে বাসক পরিচিত।

এর উচ্চতা গড়ে ১ থেকে ২ মিটার। গাছের শাখা-প্রশাখা অধিক। তবে গাছের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা খুব বেশি শক্ত মানের নয়। পাতা আকারে বড় ও ঘন, রঙ সবুজ, গন্ধযুক্ত, দেখতে ভল্লাকার ও অগ্রভাগ সুচালো। শিরা-উপশিরা স্পষ্ট। শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। ফুলের মৌসুম বসন্তকাল। ফুল আকারে ছোট, ছোট স্পাইকের ওপর ফোটে। পাপড়ি রঙে সাদা ও তাতে কয়েকটি বেগুনি দাগ থাকে। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফল সুপারির আকৃতির এবং এর ভেতর বীজ থাকে। বীজ ও ডাল কাটিংয়ের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা যায়।

‘বাসক’ অর্থ সুগন্ধিকারক। যদিও এর সঙ্গে এ উদ্ভিদটির কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে দুর্গন্ধনাশক ও চর্মশোধক হিসেবে এর ব্যবহার অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে প্রচলিত। এখনও মনোহারী দোকানে শুকনো বাসক পাতা বিক্রি হয়। ছোটখাটো দৈহিক কষ্ট লাঘবের জন্যই এর ব্যবহার স্বীকৃত। বাসক কষ্টসহিষ্ণু উদ্ভিদ। পরিবেশ প্রতিকূলতার মধ্যেও মানিয়ে নিতে সক্ষম। ভেষজ গুণে গুণান্বিত বাসকের রয়েছে নানা ভেষজ গুণ, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও প্রমাণিত।

বাসক পাতার রস মাথায় লাগালে উঁকুন চলে যায়। গায়ের ঘামের গন্ধ দূর করতে এর রস সহায়ক। এছাড়া সর্দি, কফ-কাশি, হাঁপানি, কৃমি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, প্রস্রাবের জ্বালা যন্ত্রণা কমাতে, চুলকানি ও চামড়ার দাদ সারাতে এবং জণ্ডিস রোগে বাসক ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে- পাতা দিয়ে এক ধরনের রঙ তৈরি করা যায়। এর পাতায় ক্ষারীয় পদার্থ থাকার ফলে সহজে পচন ও পোকার আক্রমণ হয় না বলে প্যাকিং ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। ফসলি জমির জন্য পাতা দিয়ে তৈরি করা যায় সবুজ সার এবং পাতার রস দিয়ে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক। বাসক গাছ ভূমিক্ষয় রোধে সহায়ক। ভেষজ গুণে গুণাণ্বিত বাসক গাছ বাগান, পুকুর পাড়, ছোট-বড় রাস্তার ধার, ক্ষেতের আইলে, বাঁধের ধার, পতিত জমি ও বন জঙ্গলে দেখা যায়।

বাংলাদেশের সব জেলায় বাসক উদ্ভিদ জন্মায়। তবে সাতক্ষীরায় জন্মায় অসংখ্য গাছ। এ গাছের পাতা এখন ওষুধ কোম্পানি কিনে নিচ্ছে। এ পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে কাশির সিরাপ। বাসক পাতার নির্যাস, রস বা সিরাপ জমে থাকা শ্লেষ্মা তরল করে নির্গমে সুবিধা করে। ফলে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসনালির অসুখ সারাতে এটি বেশ উপকারী।

লেখক : প্রকৃতিবিষয়ক লেখক ও কৃষিবিদ