নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার প্রতিবাদে দেশে দেশে বিক্ষোভ

0
7

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ক্ষেপে উঠেছে গোটা মুসলিম বিশ্ব। দেশে দেশে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-র‌্যালি। আল নূর ও লিনউড মসজিদে হামলার দিন শুক্রবার থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ।

একদিন পর শনিবার তা চরম মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। তুরস্ক, ইরান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে একযোগে চলে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। খবর ডেইলি সাবাহর।

সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয় তুরস্কে। দেশটির অন্যতম প্রধান শহর ইস্তাম্বুলের ঐতিহ্যবাহী হাগিয়া সোফিয়ার সামনে জড়ো হন কয়েক হাজার তুর্কি বিক্ষোভকারী। বাইজান্টাইন আমলের হাগিয়া সোফিয়া প্রথমে মসজিদ এবং পরে বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিন বড় বড় ব্যানার-পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিক্ষোভাকারীরা। ব্যানারে ব্যানারে লেখা ‘দুনিয়ার মুসলিম এক হও’। মুখে মুখেও ছিল একই স্লোগান।

শুক্রবার হামলার আগে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট ৭৪ পৃষ্ঠার একটি ইশতেহার প্রকাশ করে। যাতে লেখা ছিল, ‘হাগিয়া সোফিয়ার সব মিনার সরিয়ে ফেলা হবে।’ হামলাকারীর এ হুমকির প্রতিবাদেই এদিন বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন তুরস্কের ইসলামী সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

মসজিদে হামলার ঘটনাকে ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন পাকিস্তানিরাও।

শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ছাড়াও করাচি ও লাহোরের মতো সব বড় শহরে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার মানুষ। এদিন বিক্ষোভ হয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানেও।

ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে কয়েকটি ইসলামী দল। তারা এ ঘটনায় অভিযুক্তদের ‘খ্রিস্টান জঙ্গি’ আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেয়।

শুক্রবারের এ হামলার খবর শুনে জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করেন মুসল্লিরা। তারা বলেন, মসজিদে এমন হামলা ন্যক্কারজনক।

এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা। হামলায় তিন বাংলাদেশিসহ ৪৯ জনের নিহতের ঘটনায় দেশটির প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন মুসল্লিরা। পরে হামলার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪৯ জন। এর মধ্যে তিনজন বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার একটি ঘটনা ফেসবুকে লাইভও করে অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ২৮ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। তারা ওই মসজিদে যাচ্ছিলেন জুমার নামাজ আদায় করতে।

তবে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তারা প্রাণে বেঁচে যান। হামলার কারণে শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ টেস্ট বাতিল করা হয়েছে। রাতেই দেশে ফিরছেন টাইগাররা।