কানাকুয়া পাখির বাসার খোঁজে

0
4
কানাকুয়া পাখির বাসার খোঁজে। ছবি সংগৃহীত

একদিন শাহেদ জানাল, ওদের নার্সারিতে নাকি কানাকুয়া বাসা বেঁধেছে। ব্যাপারটা আমার কাছে লোভনীয়। ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে ওকে নিয়ে চললাম উত্তরের মাঠে। নার্সারির পুরোটাই মেহগনি চারায় ঠাসা। ঘন, দুর্ভেদ্য। কানাকুয়ার বাসা বাঁধার আদর্শ জায়গা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সাড়ে সাত ফুট উঁচু একটা মেহগনি চারার মাথায় বাসাটা চোখে পড়ল।

বাসাতো নয়, একবোঝা কাঁচা পাতার দঙ্গল! বাসার ভেতরটা দেখার উপায় নেই। তবে একেবারেই ছিল না তা নয়। পাশেই একটা নিমগাছ। ওটাতে চড়লাম। বাসাটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অদ্ভুত বাসা। বাসার মুখটা ওপরের দিকে। শুকনো তালপাতা দিয়ে বানানো বড়সড় সুগোল হাঁড়ি যেন। ভেতরটা বেশ পরিপাটি।

এর ভেতরে যে ছানারা আরামেই থাকবে তা অনুমান করতে কোনো অসুবিধা হয় না। বুঝলাম না, এদের বাসা এমন কেন হয়? বৃষ্টি হলে পানি জমা হতে পারে ওর ভেতর। বাসায় তিনটে ডিম চোখে পড়ল। কবুতরের ডিমের চেয়ে বড়।

শিগগিরই ডিম ফুটে হয়তো ছানা বেরোবে। বৃষ্টির পানির ব্যাপরটা বাদ দিলে বাসা-ডিমের নিরাপত্তা মোটেও খারাপ নয়। ডিমখেকো পাখির দৃষ্টির একদম আড়ালে। মা কিংবা বাবা পাখি বাসায় নেই। তবে যে কোনো সময় চলে আসতে পারে। তাই দ্রুত ক্যামেরা জুম করে ক্লিক করে কয়েকটা ছবি তুললাম। শুনেছি কোনো কোনো পাখি যদি টের পায় যে, তার বাসা অন্যে দেখেছে, তাহলে বাসা ফেলে নাকি চলে যায়। তাই ঝটপট ছবি তুলে গাছ থেকে নেমে পড়লাম। নিচ থেকে ওপরের দিকে তাকালাম। খুব সুন্দর দেখা যাচ্ছে কাঁচা পাতার বাসা।

পরদিন ঢাকায় চলে এলাম। এরপরই একটানা বৃষ্টি। ঝড়ও বয়ে গেছে আমাদের এলাকায়। শাহেদ ফোন করে বলল, পাখির বসাটা ঝড়ে ভেঙে গেছে। ডিমগুলো ভেঙে পড়ে আছে মাটিতে। ওর কথা শুনে চিনচিন করে উঠল বুকের ভেতর। কষ্ট পেলাম। মনে মনে ভাবতে লাগলাম, কত কষ্ট করেই না পাখিগুলো বাসা বানায়। নিজের সঞ্চিত শক্তিক্ষয় করে। কিন্তু বাসা-ডিম-ছানার বড় একটা অংশ নষ্ট হয় শিকারি পাখি, পশুর আক্রমণ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে।

লেখক : সহ-সম্পাদক, বিজ্ঞান-চিন্তা